সাতকানিয়ায় আলুর বাম্পার ফলন : বন্যার ক্ষতি আলুতে পূরণ করবেন চাষিরা

সাতকানিয়ার চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। যে কারণে চাষিরা গত বছরের বন্যার ক্ষতি এবার পুষিয়ে নেবেন। তুলনামূলক এবারে আশানুরূপ ফলনও হয়েছে। বাজারে আলুর দামও ভালো। যে কারণে তাদের আশা আরো বেড়েছে।

উপজেলার খাগরিয়ার কৃষক মো. রুহুল আমিন (৪০) বলেন, গতবছর দফায় দফায় বন্যায় মেরেছে। ধান চাষ করে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে এবার মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় বন্যায় ক্ষতি পুষিয়ে আসবে। মো. রুহুল আমিন খাজনায় ১ একর জমিতে স্থানীয় জাতের আলু চাষ করেছেন। রুহুল আমিন গত রোববার দুপুরে ৭-৮ জন শ্রমিক নিয়ে আলু তুলছিলেন। এ সময় কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, জমিতে বীজ রোপণ করা থেকে ফলন বাড়ি নিয়ে যাওয়া ১ একরে তার খরচ পড়েছেন ৭০ হাজার টাকা। ১ কানি থেকে আলু উঠেছে ৯০ মণের কাছাকাছি। বর্তমানে আলুর দাম সর্বোচ্চ থাকায় সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু আবাদ হয়েছে। উপজেলায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ‘দোহাজারী’ জাতের পাশাপাশি ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল জাতের আলুর চাষ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ১ হাজার ১৫০ হেক্টর। চাষিরা স্থানীয় ও ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। তবে সবচেয়ে স্থানীয় জাতের আলুর ফলনই বেশি হয়েছে।

চরখাগরিয়া গ্রামের চাষি নজির আহমদ (৫৫) বলেন, এবার আড়াই কানি জমিতে স্থানীয় জাতের আলুর চাষ করেছি। আশানুরূপ ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও পাওয়া যাচ্ছে যথেষ্ট। তিনি বলেন, এক কানি জমিতে বীজ রোপণ করা থেকে ফলন বাড়ি নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। এখন প্রতি মণ আলু বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। চরখাগরিয়া গ্রামের চাষি আহমদ হোসেন (৫৮) বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মণ আলুর উৎপাদন হয়েছে। কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে এসে নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সে হিসাবে আলুর উৎপাদনও বাড়ছে। তিনি বলেন, ফাল্গুন মাসের শুরু থেকে ক্ষেত থেকে আলু তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০ মণের কাছাকাছি আলু হিমাগারে মজুদ রাখা হয়েছে। সরজমিন সাতকানিয়ার আলুর রাজ্য নামে পরিচিত খাগরিয়া ইউনিয়নের চরখাগরিয়া ও নতুন চরখাগরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, চাষি ও পরিবারের সদস্যসহ শ্রমিকরা ক্ষেতে আলু তুলতে ব্যস্ত। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে কেউ কুদাল নিয়ে মাটি আলগা করার কাজ করছেন। আবার কেউ আলু কুড়িয়ে এক জায়গায় স্ত‚প করে রাখছেন নতুবা বস্তায় ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কারো যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। সাতকানিয়া উপজেলায় এবার স্থানীয় জাতের আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় ‘দোহাজারী’ জাতের এ আলু স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি যাচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং দামও বেশি পাওয়ায় চাষি পরিবারের সদস্যরা খুশি। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অগ্রহায়ণ মাসের শুরুর দিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আলুর বীজ বপন করা হয়েছিল। ফাল্গুন মাসের প্রথম থেকে আলুর ফলন পরিপক্ক হয়। পুরো ফাল্গুন মাসজুড়ে আলু তোলার ব্যস্ততা থাকে চাষি পরিবারে।

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র দেব বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হয়েছে। উপজেলার মধ্যে খাগরিয়া ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি স্থানীয় জাতের আলুর চাষ হয়। কৃষি কার্যালয়ের লোকজন মাঠ পর্যায়ে ক্ষেতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করায় এবং আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে আলু চাষিরা যথেষ্ট লাভবান হবেন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Like Box

SuperWebTricks Loading...