সবজি ও ফল রপ্তানিতে শঙ্কা কাটেনি

অনলাইন ডেক্স:

ঢাকা থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য সরকারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির পর দুই দিন সবজি ও ফল রপ্তানি বন্ধ ছিল। গত রোববার থেকে আবার পরিমাণে কম হলেও পণ্য যাচ্ছে। তবে তৃতীয় দেশে পণ্য স্ক্যান করার বাধ্যবাধকতার জন্য ট্রানজিটে সময় বেশি লাগছে। এতে সবজি ও ফলের গুণ-মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা।
সবজি ও ফল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মনসুর জেনারেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মনসুর জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান গতকাল সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের কার্গোতে এক টন সবজি রপ্তানির জন্য বুকিং দিয়েছে। বাধ্যবাধকতার কারণে এসব পণ্য দুবাই বিমানবন্দরে নামিয়ে স্ক্যান করাতে হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে যুক্তরাজ্যে পণ্য পৌঁছাতে কাল বুধবার বিকেল পাঁচটা বাজবে। অথচ নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তৃতীয় দেশে স্ক্যান করার বাধ্যবাধকতা না থাকলে দুবাই হয়ে আজ মঙ্গলবার রাত ১০টায় পণ্যগুলো গন্তব্যে পৌঁছে যেত।
মোহাম্মদ মনসুর বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। গত রাতে তিনি বলেন, আগে তিন ঘণ্টা ট্রানজিটেই সবজি ও ফল যুক্তরাজ্যে চলে যেত। এখন ট্রানজিটে ১২-১৩ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। এ জন্য পণ্যের গুণগত মান খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। এতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি কমার শঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশ থেকে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকার সবজি ও ফল রপ্তানি হয়েছে। এর প্রায় ৪০ শতাংশ বা ৪৫০ কোটি টাকার পণ্যের গন্তব্যই ছিল যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া বেশি হওয়ায় চারটি বিদেশি বিমান সংস্থার কার্গোতে সবজি ও ফল রপ্তানি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপত্তার কারণে গত ৯ মার্চ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য সরকার। এরপর ১১ ও ১২ মার্চ শুক্র ও শনিবার বিমান সংস্থাগুলো ঢাকা থেকে সবজি ও ফল নেয়নি।
ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন গত রাতে বলেন, কাতার ও এমিরেটস এয়ারলাইনস গত রোববার সবজি ও ফল পরিবহন শুরু করলেও কুয়েত ও ইত্তেহাদ এয়ারলাইনস এখনো করেনি।
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, ‘দু-চার দিন গেলে বোঝা যাবে সবজি ও ফল রপ্তানি কতটা কমেছে কিংবা পণ্যের গুণগত মান কমেছে কি না। এ বিষয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে এখনো কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
এদিকে সামনে ফলের মৌসুম। এ সময় যুক্তরাজ্যে প্রচুর পরিমাণে ফল রপ্তানি হওয়ার কথা। এ বিষয়ে মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘ফল রপ্তানির মৌসুম পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলে ক্ষতি হয়ে যাবে। তবে আমরা আশাবাদী, তার আগেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সরকার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে।’

সুত্র: প্রথম আলো

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Like Box

SuperWebTricks Loading...