দেওয়ানী আদালতের আর্থিক বিচারিক ক্ষমতা বাড়ছে

নিম্ন আদালতে দেওয়ানী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। দেওয়ানী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা অন্তর্ভুক্তের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নিম্ন আদালতে বিচারকদের আর্থিক বিচারিক ক্ষমতা বাড়াতে সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর সংশোধনী প্রস্তাব আকারে খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৮৮৭ সালের এই আইনের ১৯ ও ২১(১)(ক) ধারা সংশোধন করা হচ্ছে বলে দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

বিদ্যমান আইনের ১৯ ধারায় রয়েছে, সহকারী জেলা জজ সর্বোচ্চ দুই লাখ ও সিনিয়র সহকারী সর্বোচ্চ জজ চার লাখ টাকা সমপরিমাণ মূল্যের জমিজমার মামলা গ্রহণ এবং বিচার করতে পারবেন।

২১(১)(ক) ধারায় বলা আছে, জেলা জজ সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা সমপরিমাণ মূল্যের মামলার আপিল গ্রহণ ও শুনানী করতে পারবেন। অথচ এই আইনেই একজন জেলা জজ অপর্যাপ্ত সমপরিমাণ মূল্যের মামলার বিচার করতে পারেন। কিন্তু আপিল গ্রহণ ও শুনানী করতে পারেন মাত্র পাঁচ লাখ টাকার।

আইনমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় আইনের ১৯ ও ২১ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। তাতে বলা হয়েছে, একজন সহকারী জেলা জজ সর্বোচ্চ ১৫ লাখ, সিনিয়র সহকারী জজ ২৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ মূল্যের মামলা গ্রহণ ও বিচার করতে পারবেন।

একই সঙ্গে জেলা জজ সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা আর্থিক সমপরিমাণ মূল্যের মামলার রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ ও শুনানী করতে পারবেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকেই এই আইনের সংশোধনী খসড়াটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর আইনটি পাস করার জন্য পাঠানো হবে জাতীয় সংসদে।’

তিনি আরও বলেন, ‘‍যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক পাঁচ লাখ টাকার ওপরে কোনো মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে হয়। যার কারণে উচ্চ আদালতে অধিক হারে মামলা যাচ্ছে, কিন্তু সে হারে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মামলার জট ও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ছোটখাটো জমির দামও ৫ লাখ টাকার বেশি হয়। যার কারণে সহকারী ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আশানুরূপ মামলা হয় না। বেশিরভাগই হয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে। তাই প্রতিটি আদালতে মামলার হার ঠিক রাখার জন্য আইনের সংশোধনী প্রয়োজন।’

এই আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে মামলার জট ও দীর্ঘসূত্রিতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আনিসুল হক।

১৮৮৭ সালে ব্রিটিশ আমলে এই সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট তৈরি করা হয়েছে। যা কিনা প্রায় ১৩০ বছরের পুরানো। তৎকালীন সময়ের জমির মূল্য ও আদালতের বিচারিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এই আইনটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে জমির মূল্য বৃদ্ধি ও আদালতের বিচারিক পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে। তাই বিদ্যমান আইনটির সংশোধন প্রয়োজন। একই সঙ্গে শতাধিক বছরের পুরানো অন্যসব আইনগুলোকেও যুগোপযোগী করতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Like Box

SuperWebTricks Loading...