এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৭ শতাংশ : এডিবি

অর্থনীতির হাল হকিকত নিয়ে এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৬’ -এ এই পূর্বাভাস এসেছে।

বুধবার এডিবির ঢাকা কার্যালয়ে সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ও হেড অব কান্ট্রি প্রোগ্রাম মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুল ধরেন।

তিনি বলেন, “আগের বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ বিরাজ করায় এ প্রবৃদ্ধি হবে। আগামী অর্থবছরে এ পরিবেশ আরও ভালো হবে। একইসঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।

বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এডিবির এই পূর্বাভাস বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে। অবশ্য  সরকার চলতি অর্থবছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা নিয়ে অর্থনীতিকে চালিয়ে নিতে চাইছে।

এডিবি বলছে, তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে ‘আশাতীত উন্নতির’ কারণেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছে ম্যানিলা ভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি সহায়তার কাঠামো সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে এডিবি।

পারভেজ ইমদাদ বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাজায় থাকলে মানুষের চাহিদা আরও বৃদ্ধি  পাবে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে।”

এডিবি মনে করছে, গত অর্থবছরের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতি চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে স্থিতিশীলতা, কৃষিতে উচ্চ ফলন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপযোগী মুদ্রানীতির ফলে মূল্যস্ফীতি আগের তুলনায় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এডিবির পূর্বাভাস বলছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে এডিবি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘অধিকতর উন্নয়নের’ ক্ষেত্রে ছয়টি বিষয়কে নীতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে সংষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এগুলো হলো- যথা সময়ে কর আদায়, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভূমি রেকর্ড, রপ্তানি বাধা দূর করা, তেল ও বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলাদেশে এডিবির আবসিক প্রতিনিধি কাজুহিকো হিগুছি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সুত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Like Box

SuperWebTricks Loading...