আমি নারী

-তৃপ্তি ইসলাম

পদপল্লবে চুমু খেয়ে তোমরা বললে, তোর সতীত্ব নেই।
তুই অপায়া কলঙ্কিনী অভাগা বেহায়া চরিত্রহীন আরো শত বিশ্রীব্ব ভাষায় গালি দিয়ে অসম্মান করে পাও কি অবয়ব স্বাদ?
আতুর ঘর থেকেই শুরু হয় লাঞ্চনা। ছেলে জন্ম দিতেই হবে তা না হলে এই জগৎসংসারে ঠাঁই নেই তোর।
শরীরের সর্বহার ভাঙা ব্যাথার ন্যায় প্রসব ব্যাথা সহ্য করে জন্ম দিয়েছি কন্যা শিশুকে ওখান থেকেই শুরু আমার কটাক্ষ…..

মদ্যপান করা স্বামী গভীর রাতে আমাকে হিংস্র জানোয়ারের মতো চিঁরে খায়; কোথায় থাকে এই সমাজের নীতি বাক্য?
আমি মরণ কখনো দেখি নি….কিন্তু বেঁচে থেকেও মৃত্যুর স্বাদ সাঁধন করেছি…
যখন পেটের দায়ে কাজের খোঁজে বাসে ট্রেনে করে সন্ধানে যাই তখনই তো তোমাদেরই কিছু হাত অবলিলায় আমাকে স্পর্শ করে।
প্রতিবাদ করতে গেলেই তোমরা উপদেশমূলক বাণী শুনিয়ে মুখে কস্টেপ মেরে দাও……
লজ্জা লাগে না? নাকি লজ্জা বলতে তোমাদের মস্তিষ্কে কোনো শব্দ জানা নেই?

আজ আমি ঐসব নারীদের জয় ধ্বনি করি, যারা হিংস্র পশুদের কবলে থেকেও বেঁচে আছে দারুণ ভাবে।
আজ আমি ঐসব নারীদের জয় ধ্বনি করি, যারা চড়-থাপ্পর ঝাঁটার বারি খেয়েও দারুণ ভাবে বেঁচে আছে।
আমি তীব্র কণ্ঠে বলি, বেঁচে উঠো, নারী তুমি প্রচন্ড বেগে বেঁচে উঠো, আপন শক্তিতে।

নারী আজ তুমি পুত্রসন্তান জন্ম দিতে পারোনি বলে শুনছো শত গালির আওয়াজ…তুমিও চিৎকার করে বলো দোষ আমার না দোষ তোমাদের পুরুষের।
যখন কোনো নারী নিশিতে রাতে বাড়ি ফিরার জন্য একাপথে চলে তখনি কিছু ললাটে নরপশুর দল ঘিরে ধরে…….
তখনি প্রবল গতিতে তিক্ত রূঢ়ভাষায় বলতে ইচ্ছা করে বাড়িতে মা আছে? বোন আছে? বউ আছে?
আমি দুয়ারে দুয়ারে বিচার এর জন্য ঘুরি…বিচার নেই, নেই কোনো বিচার, খাঁ খাঁ করে জনমানব থাকা সত্বেও গোঁটা শহর।
ঝাঝালো কণ্ঠে যেদিন সাহায্যর জন্য গেলাম তোমাদের দুয়ারে হাজারো পরিহাস করে দুর দুর করে তারিয়ে দিয়েছো আমায়। আমি পিঁছু হটি গিয়েছি।।
আর পিছু হটবো না চোখের জল মুছে ফেললাম হৃদয়কে আজ পাথর করে তুললাম
দেখি না এবার কেমন করে আমাকে আঘাত করতে পারো?
আমি মৃত্যুকে জয় করতে শিখে গেছি একদম জয় করতে শিখে গেছি।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Like Box

SuperWebTricks Loading...